নতুনরা মার্কেটে এসেই কোন ১০ টা ভুল সবার আগে করেন আর তা থেকে প্রতিকারের উপায়!
ফাইভার ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য এখন ভীষণ জনপ্রিয় একটি মার্কেট হওয়ার সাথে সাথে ভীষণ কম্পেটিটিভ একটা মার্কেটপ্লেস হয়ে গিয়েছে। এখানে এখন কাজ পাওয়ার থেকে টিকে থাকা অনেক চ্যালেঞ্জিং আর তা নতুনদের জন্য তো বটেই। তাই আজকে আমরা জানবো নতুনরা মার্কেটে এসেই কোন ১০ টা ভুল সবার আগে করেন আর তা থেকে প্রতিকারের উপায়! ![]()
![]()
![]()
১। খুব সস্তা সার্ভিস দেয়ার ট্রাই করে টাকা কামানানর জন্য। অনেকেই চান অল্প সময় হালকা কিছু শিখে মার্কেটে নেমে যেতে। এর ওর ভিডিও দেখে একেবারে বেসিক টা শিখেই মার্কেটে চলে আসেন, আর তার ফলাফল হয় ভয়বহ। প্রথমে তো কাজ পান না কারণ এগুলিতে হিউজ কম্পিটিশান, তার পরে কাজ পেলেও তা ঠিক মতো করতে পারেন না, তার পরে অর্ডার ক্যান্সেল হয়, দেন আর কোন কাজ পান না, লাইফ হতাশায় ভোরে যায়।
২। বায়ার রিকুয়েস্ট তথা গিগ এ ভুল ভাল ইংরেজি দিয়ে ভরিয়ে রাখে। যে ভাষায় আপনি এই জগতে কমিউনিকেট করবেন, সেখানেই যদি একেবারে দুর্বল হন, তাহলে এই লাইনে আগানো সম্ভব নয়। আমি বলছিনা, ইংরেজিতে পিএইচডি করে আসতে হবে। কিন্তু বেসিক কমিউনিকেশান টা শিখতে হবে, কিংবা মার্কেটে নামার পরেও এই ব্যাপারে শিখার ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে, আলাদা সময় রাখতে হবে শিডিউলে।
৩। শুরুতেই রিভিউ কিনতে গিয়ে আইডি হারায়। রিভিউ কেনা বেচা খুব পপুলার একটা বিজনেস হয়ে গেছে এখন। নতুন রিভিউ পেলে তা অবশ্যই কাজ পেতে হেল্প করে কিন্তু তা ফাইভারের রুলের বাইরে। মানে কেনা বেচা না করে রিয়াল কাজ করে রিভিউ পেতে হবে। আমরা এর ওর ভক্কর চক্কর দেখে রিভিউ কিনে কয়দিন পরে আইডি টা হারাই। এমন অনেকেই আছেন যারা রিভিউ কিনে আইডি খুইয়েছেন, তাদের আমরা চিনিনা আর এই ব্যাপারে জানিনা কারণ নিজের ভুলের কথা আমরা কেউ স্বীকার করিনা আর এটাই স্বাভাবিক।
৪। ২০% বাঁচানর তাগিদে বায়ার কে বাইরে আনতে পারসোনাল কন্ট্যাক্ট শেয়ার করে ব্যান খায়। ফাইভারে কাজের প্রয়োজন ছাড়া অবশ্যই পারসোনাল ইনফো, ইমেইল, হওাটসাপ এগুলা শেয়ার করা বারণ। অনেক ক্লায়েন্ট ও এই কিছু টাকা বাঁচাতে প্রলভন দেখান বাইরে কাজ করার। কিন্তু তাদের ৯০% ই হন প্রতারক। নতুন সহজ সরল সেলারদের হাজার হাজার ডলারের কাজের লোভ দেখিয়ে এরা বাইরে এনে কাজ করিয়ে টাকা দেন না। ( সবাই এক রকম না, কিন্তু আমরা যেমন টাকা বাঁচাতে চাই, ভাওতাবাজি করি, বায়ার রাও তেমন হন)। সো, একেতে এটা করলে ফাইভার আইডি ব্যান করে দিতে পারে। আর দুই, কাজ করে টাকা নাও পেতে পারেন। তাই বাসায় থাকি ভাড়া দেই, নেট ইউজ করি মাসের কিস্তি দেই, তেমন মার্কেটে সেইফ থেকে কাজ করি, বায়ার পাই আর তার বিনিময়ে তাদের ২০% দিয়ে থাকি। এর হিসাব সহজ। কাজেই নিজে প্র ম্যাক্স আলট্রা না হয়ে এই কাজ করতে যাবেন না কখনই।
৫। দুইটা অর্ডার পেলেই শেখা বন্ধ করে দেয়। ফ্রিল্যান্সিং হল লাইফ লারনিং সিস্টেম। এখানে সারাজীবন ই শিখতে হবে। আমি ১০ বছর পরেও সব মিলিয়ে দেখি আমার শেখার ঝুলি কতোটা খালি। এখনো শিখছি প্রতিদিন। আর আপনারা নতুন এসে দুইটা ক্লিক করে কাজ পেয়ে গেলে মনে করেন পায়া গেছি মামা, আর আমাকে কে ঠেকায়। কিন্তু উক্ত টপিকে প্রফেশনাল হতে চেষ্টা করেন না, ল্যাকিং গুলিকে পূরণ করার চেষ্টা করেন না। ফলাফল এক সময় গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে যান।
৬। অতি লোভে একাধিক আইডি খুলে কাজ করার চেষ্টা করে আইডি হারায়। একেতে ভুল ভাল উপায়ে না দেখে, শিখে আইডি খুলে দেখেন এটা তো হয়নাই। না জেনে একের পর এক আইডি খুলে ফাইভারে ক্যারিয়ার বরবাদ করেন। আবার এক আইডিতে কাজ না পেলে ১০ দিন পরে আরেকটা আইডি খুলেন। এখানে বুঝতে হবে কাজ পাওয়ার নিতি, আপনার দক্ষতা আর মার্কেটের কম্পিটিশান আর কাজের সম্ভাব্যতা। হিসেব নিকেশ করে আইডি খুলে কাজ করতে হবে।
৭। ডীপ্রেশানে বায়ার কে গালা গালি করে। প্রায়ি দেখি বায়ার রিকুয়েস্ট এ কাজ চেয়ে পোস্ট দেন। কাজ না পেয়ে এখানে ওখানে স্প্যামিং, গালাগালি করেন। ভাবেন কাজ তো পাবো না, মনের শান্তি মিটিয়ে নেই। এই কাজ গুলি আমরা করে থাকি দেশীও গ্রুপ গুলিতে। নিজের জীবনের ব্যর্থতা আমরা মানুষ কে গালি দিয়ে ঘুচানোর চেষ্টা করি। ইংরেজিতে কথা বলতে না পারলেও ইংরেজি গালি ঠিকি মুখস্ত করে রেখেছি সব। মনে রাখবেন এগুলা শুধু সব খানে আপনাকে ছোট ই করবে, বড় নয়। অনলাইন, অফ্লাইন সব খানে কাজের অনেক বড় একটা পার্ট হল পলাইটনেস আর আচার ব্যবহার। এই জিনিস টা খুব মেনে চলেন বায়ার রা। শুধু সুন্দর ব্যবহার দেখেই একটা ভুল কাজ ও অনেক বায়ার অ্যাপ্রুভ করে টিপ দিয়ে তা ক্যান্সেল না করে। কাজেই এই কাজ টা করবেন না।
৮। এখানে ওখানে কোর্স করে মারা খায় কিন্তু গ্রুপ গুলিতে ফ্রি প্রিমিয়াম কনটেন্ট ঘেটেও দেখে না। আপনি কি জানেন, আমাদের এই গ্রুপেই কতো কতো পোস্ট, ভিডিও আর আর্টিকেল আছে যা ইউটিউবেও খুঁজে পাবেন না? ইভেন আমার নিজের ই ফাইভার মাস্টারগাইডলাইন পোস্ট গুলি রয়েছে গ্রুপের পিন পোস্ট এ কিন্তু আপনারা তো তা দেখবেন না। আমাদের লাইভ গুলি শুনবেন না। এক মাত্র আমরাই স্বার্থ ছাড়া হেল্প করে যাচ্ছি জেগুলি অথেনটিক আর কুয়ালিটি কনটেন্ট। আর সবাই ব্লেম করে, কোর্স করায় যারা সবাই ধান্দাবাজ। আপনারা যে বলদ তা একবার স্বীকার করে গ্রুপের কনটেন্ট গুলি একটু ঘেটে আসেন দাদা।
৯। গ্রুপে আর ইউটিউবে ফাইভার নিয়ে সময় না দেয়া। কারণ ফাইভার নিয়ে যত জানবেন, আপনার কাজ করা তত সহজ। আমার জানার ৫০% জ্ঞ্যান আসে ফেসবুকের গ্রুপ স্টাডি আর ইউটিউবে রেগুলার ভিডিও দেখে। কে কি বলছে, কোন টিপ দিচ্ছে, কি প্রবলেম ফেস করছেন, তার সমাধান এ কে কি বলছে ইত্যাদি সব কিছু স্টাডি করলে আপনার জিজ্ঞেসার ৯০% প্রশ্ন ই গায়েব হয়ে যাবে। জানতে পারবেন হিউজ আর সেটা নিজের মতো করে কাজে লাগিয়ে আপনার সেল কে বুস্ট করতে পারবেন বহু গুনে!
১০। কাজের জন্য দিন রাত খালি ফাইভারে পরে থাকা, আর ভুল ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর নামে এখানে অখনাএ গিগ এর লিঙ্ক স্প্যাম করে বেড়ানো। ফ্রিল্যান্সিং যখন ইঙ্কামের মাধ্যম, তখন সব জায়গায় কাজের জন্য শুরুতে ট্রাই করতে হবে। সব খানে সুন্দর পোর্টফলিও আর একাউট তৈরি করতে হবে। সুন্দর ইংরেজিতে সুন্দর ভাষায় প্রফাইল সাজাতে হবে ক্লায়েন্ট এর জন্য। রেগুলার বায়ার রিকুয়েস্ট বা বিড করতে হবে রিলেভেন্ট কাজের জন্য। আর সেই সাথে এখানে ওখানে গিগ লিঙ্ক দিলেই কাজ মিলবে এই মিথ বা ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমার একটা ভিডিও আছে তা দেখতে পারেন। আর অনেকেই একটা সিঙ্গেল ক্যাটাগরিতে কাজের জন্য গিগ দেন। আমার মতে যত ক্যাটাগরি বাড়াতে পারবেন ততো কাজের ফ্ল ও বাড়বে। কাজেই এটা অনেক দরকারি একটা টপিক।তো বন্ধুরা, মুলত এই ১০ টা ভীষণ লেভেলের বেসিক ভুল আমরা সবাই করি কাজ করার শুরুতেই। আর তাই আমাদের অধিকাংশের কাজ শুরুর আগেই শেষ হয়ে যায়। কাজেই এগুলি মানুন আর সঠিক উপায় মেনে কাজ করুন।![]()
Comments
Post a Comment