ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কী ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে কতদিন লাগে
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করি টানা গত কয়েক বছর ধরে ।
PHP, Laravel, Javascript, WordPress
দিয়ে ইউরোপের ক্লায়েন্টদের কত বিগবিগ প্রজেক্ট করে দিলাম। অনলাইনবেজ ইনভেন্টরি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করলাম।
কিন্তু এই ৮/৯ টা বছর প্রফেশনালভাবে কাজ করার পরও, নিজে একটা প্রফেশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট করার পরও, আজ পর্যন্ত কোথাও নিজেকে পরিচয় দিতে হলে ‘এক্সপার্ট’ বলে পরিচয় দিতে পারলাম না, বলা যায় সাহস হয় না; মনে হয় এখনো আর কত কি যে শেখার বাকি আছে, কত কি অজানা রয়ে গেছে, আর কত কন্টকাকীর্ণ পথ হাঁটতে হবে; সেখানে তিনমাস ট্র্রেনিং করে আসা কিছু পোলাপান (কাউকে ছোট করছি না) আর কয়েকমাস কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে থীম কাস্টমাইজ করা লোকজন নিজেকে পরিচয় দেয় ‘এক্সপার্ট ডেভেলপার’ বলে ! ‘এক্সপার্ট’ অমুক-তমুক বলে! পোর্টপোলিও লিখতে হলে লিখে ‘অনেক অভিজ্ঞ’ বলে।
শুধু কি তাই? তাদের প্রোফাইলে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে- তারা এক একজন CEO বনে গেছেন ! প্রোফাইলে এটা বেশ ভালভাবেই টাঙানো আছে! কিসের CEO ? খোঁজ নিলে দেখবেন তেমন কিছু না, ‘টো-টো কোম্পানীর’ CEO আরকি ! এদের কি আত্মসম্মান বলে কি কিছু নাই নাকি !?
নতুন ক্লায়েন্ট তো বটেই, আমার অনেক পুরনো ক্লায়েন্টদের অভিজ্ঞতাও যখন শুনি- তারা এশিয়ার কাউকে কাজ দিতে হলে কয়েকবার ভাবেন। সবার অভিজ্ঞতাই অনেকাংশে খারাপ।
মার্কেপ্লেসগুলোও তো নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই।
দেশের মার্কেট নষ্ট করার পর এখন মার্কেপ্লেসেও ৫ ডলারে ই-কমার্স সাইট বানিয়ে দেয়, এমন অভিজ্ঞ দিয়ে এখন দেশ ভর্তি। এবার বুঝেন কি রকম ট্যালেন্টেড একটা দেশে বাস করছি আমরা!
গত কয়েকদিন আগে আমাদের সার্কেলের কয়েকজন মেধাবী প্রোগ্রামার বড়ভাই ও ফ্র্রেণ্ডসার্কেলে এসব নিয়ে কথা বলছিলাম। তারাও এসব নিয়ে বিরক্ত। যদিও আমরা কেউ-ই মার্কেপ্লেসের ওপর নির্ভরশীল না; কিন্তু যারা নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে বিভিন্ন মার্কেপ্লেসে কাজ করছেন, বাঁশ তো যাবে তাদের! এরকম ছ্যাঁচড়াদের জন্য এরা পড়বে ভীষণ সমস্যায়। অনেকে পড়েছেনও। টোটাল পরিবেশটাই এরা নষ্ট করছে।
আমিও নতুন ছিলাম। আমাদের সার্কেলের সবাই নতুন ছিল। কিন্তু তাই বলে আমরা ছ্যাঁচড়ার মত জীবনেও কোনোদিন কিছু করিনি। নিজের সম্মানের জায়গাটা নিজেরা তৈরি করেছি। এমনকি নিজে থেকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে কোনো ক্লায়েন্টকে যেছে কাজের কথা বলিনি। কোনো ক্লায়েন্ট নক দিলে তাঁকে পুরো বিষয়টা সততার সাথে ব্রিফ করেছি। এসব মেনে যদি কেউ কাজ করাতে চায় ‘ওয়লেকাম’, তা নাহলে ‘টা-টা’! বাইরের ক্লায়েন্ট হলে ৯৯% ক্ষেত্রেই ভাল-মন্দ বুঝেছেে; কিন্তু দেশের ক্লায়ন্টে হলে ৯৫ % ক্ষেত্রেই বুঝেনি। এটাই হল আমাদের দেশের ক্লাায়েন্টেরও মানসকিতা।
তাই এমন ক্লায়েন্টের জন্য ওপরে বর্ণিত দেশের ‘এক্সপার্ট’ নামক ধুরন্ধর এবং CEO কোম্পানির মালিকরা হল পারফেক্ট! প্রবাদে আছে না- ‘রতনে রতন চেনে’ ! কম পয়সায় তারা আলকাতরা খেতেও রাজি !
আমাদের সার্কেলের কথাটা বলেছিলাম, সাথে দেশের আরো অভিজ্ঞ ডেভেলপার বা ফ্র্রিল্যান্সার যারা আছেন, যাদের নামও অনেকে জানে না, কারণ তারা বাইরের কয়েকটা গ্রুপ ও ফোরাম ছাড়া তেমন কোনো গ্রুপ বা ফোরামেও খুব একটা অ্যাক্টিভ না, এসবের তাদের তেমন প্রয়োজনও নাই, সেই তারা কখনো নিজেকে দেখিয়ে বেড়ায় না। একটু খোঁজ নেন, বাকিটা নিজেই বুঝে যাবেন। তাদের কাছে সময় এবং কাজের ভ্যালু অনেক। তারা সবাই চাপা দিয়ে নয়, ৪২০ করে নয়; নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়েই তাদের জায়গাটা তৈরি করেছেন। দিনশেষে কিন্তু একজন তুখোড় ক্লায়েন্টই কিন্তু আরেকজন তুখোড় ডেভেলপার বা ফ্রিল্যান্সার খোঁজেন। এটাই ট্রুু ! প্রাকটিক্যাল !
যারা বাইরে কিছূ করতে পারে না বা যাদের যোগ্যতা নাই তারাই রাস্তার ফেরিওয়ালার মত বিজ্ঞাপন দেয় দুই হাজার/ পাঁচ হাজার টাকায় ওয়েবসাইট বানিয়ে দেবার। আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নাই; একটু চোখ-কান খোলা রেখে অবজার্ভ করেন, সত্যটা নিজেই বুঝতে পারবেন !
অনেকের রিকোয়েস্টে আমি মাঝেমধ্যে হঠাৎ হঠাৎ সময় বের করে লিখতে বসি। যাতে কেউ শুরুটাই ভুল পথে না-করে। অল্প লোভে পড়ে পুরো ক্যারিয়ার নষ্ট না- করে। আমাদের মানসকিতা যাতে একটু হলেও চেঞ্জ হয়।
হ্যাপী কোডিং !
Comments
Post a Comment